ক্যারিয়ার গাইডলাইন

+8801787659323

নয়েজ তৈরি করতে না পারলে, সেই কনটেন্ট অর্থহীন

আপনার কনটেন্ট কি নয়েজ বা আওয়াজ করতে পারছে?

প্রশ্নটা অদ্ভুত লাগছে, তাইতো? অদ্ভুত এ প্রশ্নের উত্তর না জানলে কনটেন্ট তৈরিতে পরিশ্রম ও সময় ব্যয় করলেও ব্রান্ডের জন্য খুব উপকার হবে না।

নয়েজ করতে ব্যর্থ হওয়া কনটেন্টের ৩টা মূল বৈশিষ্ট্যঃ

  • সেই কনটেন্ট খুব পড়ুয়ারা ছাড়া অন্যরা পড়তে উৎসাহিত হচ্ছেনা।
  • কনটেন্টটি খুব পরিচিত কাছের মানুষরা ছাড়া অপরিচিত কেউ পড়তে আগ্রহী হয়না।
  • কনটেন্টটি শুরু করলে শেষ পযন্ত শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ার পারসেন্ট বেশি।

আগেই বলেছি, নয়েজ তৈরি করতে ব্যর্থ হওয়া কনটেন্ট ব্রান্ড ভ্যালু বাড়াতে খুব অল্প ভুমিকা তৈরি করে। তাই  এমন কনটেন্ট তৈরিতে ভাবনা চিন্তার সময় ব্যয় করতে হবে, যে কনটেন্ট নিয়ে মানুষ আলোচনা করবে, মানুষের মনে চিন্তার খোরাক দিবে, পাঠক আপনার পরবর্তী কনটেন্টের জন্য অবচেতন মনেই অপেক্ষা করবে, আপনার দক্ষতা নিয়ে আলাদা শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হবে। বেশি বেশি কনটেন্ট নয়, বরং ১০টা কনটেন্ট তৈরিতে সময় অপচয় না করে ১টা নয়েজ সৃস্টিকারী কনটেন্ট তৈরিতে সময় ব্যয় করুন, সেটাই বুদ্ধিমানরা করে থাকে। ১টা কনটেন্টকে ১০ বার শেয়ার করুন, তাহলে সেই কনটেন্ট ভ্যালু তৈরি করতে পারবে বা নয়েজ সৃষ্টি করতে পারবে।

বুদ্ধিমানদের জন্য জানাচ্ছি, নয়েজ সৃষ্টির কিছু ম্যাথডঃ

  • টার্গেট অডিয়েন্সের ব্রেইন টার্গেট করতে না পারা: টার্গেট অডিয়েন্সের সাইকোলজি নিয়ে ভেবে, তাদের ব্রেইন বুঝে কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। যেমন:  আমার এ কনটেন্টটা পড়বে, একদম নতুনরা। তাদের নলেজ জিরো। তাই টেকনিক্যাল টার্ম অ্যাভোয়েড করে তারা যেটুকু বুঝবে, সেটুকু নিয়ে লিখছি। অনেক পয়েন্ট ভাবনাতে আসলেও সেটা যুক্ত করছিনা, কারন এ লেখার টার্গেট অডিয়েন্স সে পয়েন্টগুলো বুঝতে ব্যর্থ হয়ে লিখাটা পড়ার ব্যপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।
  • কনটেন্ট যাতে হয়, পাঠকে মনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়াঃ

ফেসবুক বা গুগল অ্যালগরিদম চিন্তা না করে অনেক কনটেন্ট বানাতে হবে, এ চিন্তা না করে কিভাবে লিখলে এবং কি কি লিখলে পাঠক, কিভাবে উপস্থাপন করলে সেই কনটেন্টের ব্যাপারে পাঠক আগ্রহবোধ করবে, সেইভাবেই তৈরি করতে হবে কনটেন্ট।

  • কনটেন্টের আপিল বাড়িয়ে তুলতে ভিজুয়্যালাইজেশনঃ

বর্তমান যুগ ভিজুয়্যালাইজেশনের যুগ। তাই কনটেন্টের সাথে কিংবা পুরো কনটেন্টকে ভিজুয়্যালাইজেশনের মাধ্যমে আকর্ষনীয় করে কনটেন্টের আপিল বা আগ্রহ বা ভ্যালু বাড়িয়ে তুলতে যতটা দক্ষতা দেখাতে পারবেন, ততই কনটেন্টটি নয়েজ তৈরি করতে পারবে বেশি।

লিখার সাথে চমৎকার অ্যাটেনশন ইমেজ কিংবা পুরো লিখাটি ইনফোগ্রাফিকস, কিংবা শর্ট ভিডিওর মাধ্যমে কনটেন্টটি আপিল বাড়িয়ে তুলতে হবে।

  • কনটেন্ট টপিক হোক সোশ্যাল মিডিয়াতে আলোচিত বিষয় নিয়েঃ

সোশ্যাল মিডিয়াতে আলোচিত টপিকসকে কাজে লাগিয়ে অনেক ভালো মার্কেটাররা কনটেন্ট এবং প্রোডাক্ট প্রমোশন করে থাকেন, যেটাকে “মোমেন্ট মার্কেটিং” বলা হয়ে থাকে।  এই টাইপ কনটেন্টগুলো নয়েজ সৃষ্টির জন্য খুবই কাযকরী। অনেক পোস্ট, অনেক কমেন্টে সময় ব্যয় না করে এ টাইপ কনটেন্ট তৈরির জন্য ব্রেইনকে ভাবতে কাজে লাগালে সেটা ৩০০ কমেন্ট এবং ২০ টা পোস্টের চাইতে পাওয়াফুল অস্ত্র হবে।

  • একটা ভালো কনটেন্টকে অনেকবার ব্যবহার করুনঃ

আপনার তৈরি কিছু কনটেন্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং ভালো কনটেন্ট হতে পারে। সেই কনটেন্টকে শুধু একবার শেয়ার না করে বার বার পোস্ট করুন, একাধিকবার শেয়ার করুন। প্রতিবার শেয়ার করার সময় মেসেজটা পরিবর্তন করে নতুন মেসেজ যুক্ত করে শেয়ার করতে পারেন, তাতে আরও ভালো ফলাফল পাবেন। বার বার শেয়ারে একটা সাধারণ কনটেন্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে এবং ১বার পোস্ট করে ওই পোস্টকে আর সামনে না আনলে গুরুত্বপূর্ণ ও ভালো ক্রিয়েটিভ পোস্টও গুরুত্ব পায় না। আর গুরুত্ব না পেলে সেটা নয়েজ সৃস্টি করতে পারেনা।

  • ভালো কোন কনটেন্ট আনতে প্রি-ক্যাম্পেইন করতে পারেনঃ

মাঝে মাঝে কিছু পোস্টে ভালো নয়েজ চাইলে,  আগে থেকে আসিতেছে বলে কোন পোস্ট করে ক্যাম্পেইনে চালাতে পারেন। সেই পোস্টটা কেন দরকার, কি আকর্ষন সেগুলো লিখে আগেই ২-৩ দিন ক্যাম্পেইন করে সবার মধ্যে আগ্রহ তৈরি করে, তারপর কনটেন্টটা পাবলিশ করতে পারেন, তাতে সেই একটা কনটেন্ট ভালো নয়েজ তৈরি করবে।

  • ফলোআপ পোস্ট যেকোন কনটেন্টকে ভালো বুস্ট আপ করেঃ

কোন একটা কনটেন্ট পোস্ট করলেন, সেখানে ধরেন অনেক কমেন্ট পড়লো, সেই কমেন্টের উত্তরগুলো সেখানে কমেন্টে দিয়েই দিলেন। সেই প্রশ্ন- উত্তরগুলো নিয়ে আরেকটা পোস্ট রেডি করলেন। আগের পোস্টে কিছু প্রশ্ন ছিলো, সেগুলোর উত্তর নিয়ে আজকের পোস্ট, এরকম টাইটেল দিয়ে আরেকটা পোস্ট হতে পারে। আবার আগের পোস্টে মানুষের ফিডব্যাক নিয়ে আবার পোস্ট হতে পারে। এরকম আরও টেকনিক রয়েছে ফলোআপ পোস্টের।  একটাই মূল কনটেন্টকে নিয়ে এভাবে করেই ১৫-৩০ দিন ধরে রেশ রাখতে পারবেন। একটু বুদ্ধিমান না হতে পারলে কি পরিশ্রম কমিয়ে ফলাফল আনতে পারবেন?

  • কনটেন্ট শেয়ারদাতার জনপ্রিয়তার অনুপাতে নয়েজ বাড়তে থাকবেঃ

যাদের প্রোফাইলে মানুষজনের আগ্রহ একটু বেশি, তাদেরকে দিয়ে কনটেন্টটা শেয়ার করাতে পারেন।   এটা করাতে অনেক টেকনিক রয়েছে। ধরেন, কনটেন্টে সেই ব্যক্তির বলা কোন মেসেজকে কোট হিসেবে যুক্ত করে দিতে পারেন। এটা একটা টেকনিক হতে পারে। তাহলে দেখবেন, তার ফলোয়াররাও পোস্টটা শেয়ার করবে। নয়েজ সৃষ্টির জন্য এটুকু কৌশল নিতেই পারেন।  আরও অনেক বুদ্ধি করে জনপ্রিয় কাউকে দিয়ে পোস্টটি শেয়ার করাতে পারেন। বলবোনা, মাথা ঘামিয়ে বের করেন।

এখানে অল্প কয়েকটি ট্রিকস শেয়ার করলাম। এটুকুও যদি অনুসরণ করেন, অনেক ভালো ফলাফল পাবেন। অনেকের ভালো পোস্ট করে, কিন্তু নয়েজ সৃষ্টি করতে পারেনা, আবার অনেক ফালতু পোস্ট ভালো নয়েজ তৈরি করে। ভালো পোস্টগুলো ফালতু পোস্টের চাইতে বেশি নয়েজ তৈরি করুক, এটাই প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশা থেকেই এ লেখাটি লিখলাম। আপনার প্রত্যাশাও যদি আমার সাথে মিলে, তাহলে এ লেখাটি শেয়ার করার অনুরোধ রেখে শেষ করছি।

Share this post :

Facebook
Twitter
LinkedIn
Pinterest

Latest Post